প্রগঙ্গ লোকমাধ্যম

সম্পাদনা

সঞ্জীব সরকার

আাকাডেমিক পাবলিশাস ১১ পঞ্চানন ঘোষ লেন, কলিকাতা »

প্রথম সংস্করণ ১৯৬১

আাকাডেমিক পাবলিশাস” ১১ পর্ধানন ঘোষ লেন, কলিকাত! »-এর পক্ষ হুইতে শ্রীবিমলকুমার ধর কর্তৃক প্রকাশিত এবং কালিক। প্রেস প্রাইভেট লিঃ, ২৫ ডি, এল, রায় স্ট্রীট কলিকাতা-৬ হুইতে শ্রীশশধর চত্রবর্তা কর্তৃক মুদ্রিত।

সুচীপত্র

ভূমিকা সংযোগ-সংক্রমণ লোকসংস্কৃতি জিজ্ঞাসা উঃ তুষার চট্টোপাধ্যায়

সামাজিক্ষ অর্থ নৈতিক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে সংযোগ-মাধাম মঞ্জীব সরক্কার

বর্তমাম সমাজ বাবস্থায় লোক্ষমাখ্যমের ব্যবহার কীরেশ্বর বান্দাপাধ্যায়

পুপ্পচলিয়ার লোক্ষসংস্কতি তথা সংযোগ-মাধাম সুনীল মাহাত

জনসংযোগ ঝাড়গ্রামের লোকসংস্কতি ফামিনী মাহাত

ঝুমুর একটি স্বতন্ত্র সঙ্গীতধারা কিরীটি মাহাত

১৯

৭৭

সংযোগ-সংক্রমণ লোকসংস্কৃতি জিজ্ঞাসা

ডঃ তুষার চট্টোপাধ্যায়

সামাজিক গ্রাতিক্রিয়ার নিদর্শণ সংযোগ-মাধ্যমের অভিধায় লোক- সংস্কৃতি বা লোকমাধযম এক সুনিদিষ্ট বিভাগরাপে সুুচিহি“ত বিষয় সামাজিক ক্রিয়া-প্রাতিক্রিয়া সংযোগ-মাধ্যমের ক্ষেত্রে লোকসংস্কৃতির কার্যকর ভূমিকার কথ! সবজনবিদিত হলেও, এই সম্পফিত আলোচনা আমাদের দোশে বিরল। বাংলায় সংযোগবিষ্ঠার সুনিদিষ্ট চর্চার সুত্র- পাতের ক্ষোত্রে একীলের বিনয় ঘোষ ফাদার রবের্জ-এর নাম বিশৈষ- ভাবে উল্লেখযোগ্য বিষ্া-সম্পঞ্ষিত আলোচনার নংগঠন বাংলা গ্রস্থাদি গ্রাকাশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়-_চিত্রবাণী উইলিয়াম কেরী স্টাডি এযাণ্ড রিসার্চ সেণ্টার, সেপ্টার ফর কম্যুনিকেসন এ্যাণ্ড কালচারাল এ্যাকসান, উত্তরবঙ্গ লোকধান প্রস্ৃতি সংস্কার উদ্যোগের কথা। ভারতীয় ভাষ! পরিষদে (৩৬এ, সেক্সাপীয়র সরণী. কলকাতা ৭* , *১৭ সেন্টার ফর কম্যুনিকেসন এযাণ্ড কালচারাল এ্যাকসান আয়োজিত '*0011901090017 0171 019 ০0 70110156019 117 01017017108 000”- বিষয়ক আলোচনা সভা লোকমাধ।ম সংযোগ-প্রক্রিয়া সম্পকিত গবেধণ1- অনুশীলনের ক্ষেত্রে দি এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটন1। বর্তমীন আলোচনার অনুসঙ্গে প্রথমেই বন্প্রচলিত ইংরেজী “কমু নিকেশন”, “মিডিয়া”, “মাস' মিডিয়1” “ফোক মিডিয়!” - শন্দগুলির ংলা প্রতিশব্দ বিষয়ে আলোচনা! প্রয়োজন আমর! সাধারণভাবে কম্যুনিকেশন অর্ধে সংযোগ, মিডিয়া অর্থে মাধ্যম, মাম মিডিয়া অর্থে

জনমাধ্যম ( গণমীধাম নয়) ফোক মিডিয়া অর্থে লোকমাধাম প্রানি শব্দগুলি ব্যবহার করতে পারি মাস মিডিয়া! অর্থে সাধারণতঃ গণমাধাম শবটি বন্ছল ব্যবহৃত। আমাদের দেশীয় পরিবেশ, জাতীয় পরিস্থিতি সাংস্কৃতিক 'অভিব্যস্তির কথা স্মরণে রেখে লোকসংস্কৃতির অভিধায়-_ ৮০29121 09108016 অর্থে লোকপ্রিয় সংস্কৃতি, £৯600165 08110015 অর্থে গণসংস্কতি এবং 1৬৪55 0810016 আর্থে জনসংস্কৃতি শব্দত্রয় ব্যবহার করা যাঁয়। দেশপ্রেমের আবেগ বা সংগ্রামী চেতনায় প্রবর্তণায় উদ্দীপ্ত গণজাগরণের সংস্কৃতি, গণসংস্কৃতি, সচেতন রাজনৈতিক মনন” গ্রয়াসে যার উদ্ডব।

লোকসংস্কৃতি বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে জনমাধাম (1৬255 1416019 ) সংক্রান্ত আলোচনায় বিশেষভাবে গণসংস্কতি ( 7600165 €0৮10016) জনসংস্কতির (1959 €0910016 ) প্রত্যয়জাত পার্থকা সম্পর্কে সচেতন হওয়া আবশ্টক। জন মাধ্যম গরাচারিত সংগঠিত “জনসংস্কৃতি” এবং জনগণের সচেতনতা সম্বদ্ধ “গণসংস্কতি” এক নয়। শ্রেণীহীন সামাবাদী ব্যবস্থায় জন মাধ্যম-প্রাসারিত সংস্কৃতি ভিন্ন তাৎপর্ধে সমৃদ্ধ হয়ে গণসংস্কৃতির অভিমুখীন হয়ে উঠতে পারে কিন্তু শ্রেণীশাসিত সমাজব্যবস্থায় জন মাধ্যম প্রাবততিত সংস্কৃতি জন সংস্কৃতি রূপেই বিবতিত হয় এবং তা' অধিকাংশ ক্ষোত্রেই শোষক শ্রেণীর স্থার্থপুষ্ট হয়ে প্রকৃত গণন্থার্থ বিমুখ- রূপে ব্যবহৃত হয়। তাই মাস-মিডিয়াকে গণমাধাম লা বলে, জনমাধাম বলাই যুক্তিযুক্ত শ্রেণী-বিভক্ত সমাজে সংস্কৃতির ম্যায় সংযোগ-মাধামের শ্রেণী-চরিত্র সুম্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তা' আধুনিক গ্ীযুক্তি বিদ্যার প্রগতি" শীলতার প্রাতীক হয়েও অধিকাংশ ক্ষোত্রেই গণ-অভিমুখীন সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থীরূপে বাবহৃত হয় এই দৃষ্টিকোণ থেকে সচেতন হয়ে সংযোগ গ্রক্রিয়ায় মাধামের গ্রসঙ্গে 1৮955 1১16৭1৪+ কে “জনমাধ্যম” বলাই

শ্রেয় পচ-ক

সংযোগের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং তার ব্যাপ্তি নিসর্গ প্রকৃতি প্রানীঙজগৎ মনুষ্যসমাজের সবত্র পরিলক্ষিত হয় স্থান-কাল-পাত্র বিষয়ানুসারে সংযোগপ্রক্রিয়ার রূপভেদ হয় এবং বাস্তব পারিপাস্থিকতার প্রভাবে সংযোগ মাধ্যমের রূপান্তর ঘটে অনেক ক্ষেত্রে আমরা ভ্রাস্তি- বশতঃ মনে করি যে মানুষের ভাববিনিময় গথা শিক্ষার সঙ্গেই মানুষ সভ্য হয়েছে এবং ভাব-বিনিময় সভ্যত! সমবয়সী কালের বিবর্তনে জনসংযোগের চরিত্র বদল হালেও মানুষের ভাব-বিনিময় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সভ্যতার উদ্ভাবের সংযোগ-কল্পনা সমাজবিজ্ঞান বিরোধী চিন্তার ফল। কারণ, সমাজবিজ্ঞানীগণ জানেন মানবেতর পশুজগতেও সংযোগপ্রক্রিয়া কোন-না-কে।ন ভাবে সাধিত হয়। বিশেষজ্ঞগণ প্রকৃতির রাজো, পশু- পক্ষীর জগতে মনুষ্য সমাজে সংযোগপ্রক্রিয় প্রত্যক্ষ করে থাকেন, এমন কি দেহের এক কোষ থেকে অন্য কোষে সংবাদ প্রোরণের 70 170190819) প্রক্রিয়ার স্বরূপ অনুধাবন কারেন। সংযোগপ্রক্রিয়ীয় £16- 0০০90120901011 0011]1)11111091101) 00০91960 000171001)1- ০811091). 17)061-1061501)81 0017)17)017109816101)-- 01708) (০0101001)10211011, 901770110 001)17)101)1020101) - 216০110- 010 001011)01)109 11010. 1৬855 001017)001110901011--৮011 0011017)01)1081101) প্রাৃতির শাবর্তন লক্ষা করা যায়। সংযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে অঙ্গভাষা--শব্দ ভাষা _চিত্র ভাষা__লিপি ভাষ! এবং প্রযুক্তি বিজ্ঞ নাশ্রয়ী মাধ্যমের বাবহার পরিলক্ষিত হয়। আধুনিক অর্থে সংযোগ প্রক্রিয়ার মূল অবলম্বন তিনটি --“মেসেজ” বা বক্তব্য, “রিসিভার” বা গ্রহণকারী এবং “ফিড ব্যাক” বা প্রত্যাগত সাড়া বলা বাহুল্য ফিড ব্যাক বা উপযুক্ত সাড়া পাবার মধ্যেই সংযোগ প্রীক্রিয়ার কার্ধকারিতা বা সার্থকতা নিহিত থাকে। সাধারণভাবে সংযোগকে বিচ্ছিন্নতা বিযুক্তির বিপরীত কোটির বিষয় হিসাবে মনে হলেও “যবে থেকে স্বাভাবিক সামাজিক বৃথের প্রতিন্পরধী কোন প্রাবগতা বড় বেড়ে

পাঁচ-খ

উঠেছে, সঙ্গে সঙ্গেই সেতুবান্ধের সাধনা চলেছে”-_ এমন অনুমান সম্ভবতঃ সর্বোত সঠিক নয় সংযোগ-বিজ্ঞানীগণ জানেন যে, কেবলমাত্র বিরোধা- তক প্রক্রিয়ার বা 9596৬6 16800101) থেকেই সংযোগের আতি ্ষ্টি হয় না, 7955101৩ বা সদর্থক দিক থেকেও সংযোগের সেতুবন্ধন ঘাটে। সংযোগ-সংক্রমণের সমস্যা সমাধানের পটভূমিতেই মাধ্যমগত প্রাকীশলের গয়োগগত যাথার্ধেব মূল নিহিত থাকে

সংযোগের সর্জনীনতা হ্রাস-রদ্ধির সঙ্গে লোকায়ত চরিত্রের সমানু- পাঁতের সম্পক কল্পনা যুক্তিযুক্ত বলে মানে হয় না এবং তার সঙ্গে নাগরিকী ভবনের সম্পর্ক সমার্থে জড়িত বলে অনুমান করার সংগত কারণ আছে বলে মনে হয় না। গ্রামনগর নিদিশেবে যেমন সংযোগের হ্রাস-রদ্ধি পোতে পারে তেমন সবজনীনতা৷ নাগরিকতা, নিরপেক্ষ ভিন্রতর গ্রায়োগ- গ্রকরণে লৌকিক বৈশিষ্ট্যের মৌলিকতা৷ ভষ্ট হতে পারে। মোটের উপর সংযোগ প্রক্রিয়ায় সবজনীনতা৷ নাগরিকতা গ্রভৃতিকে এক মনে করা কার্ধতঃ সংযোগ বিদ্যা লোক সংস্কৃতি বিজ্ঞানের পরিপন্থী তা ছাড়া সংযোগ মাধ্যম হিসাবে লোক সংস্কৃতির উপকরণগুলি বিশেষরূপে বিদ্রপেরই রূপ গ্রহণ করে এমন নয়। লোকসঙ্গীত, লোকাভিনয় প্রভৃতি লোক মাধ্যম বিষয়বস্তু আঙ্গিকানুসারে বিভিন্ন প্রকার রসরূপ লাভ করে থাকে, ত। একান্তভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রপের অনুগামী নয়। এদিক থেকে ভাছু, তুষু, বোলান প্রভৃতি লোকমাধ্যমগুলির কথা ন্মরণফোগ্য সব শেষে বলা যায়, প্রাযুক্তিবিদ্যা বা কারিগরী বিদ্যার গুসারে মাধ্যমের যক্ত্রবিজ্ঞানগত জটিলতা বা শুগ্্সতা দেখা দিলেও, মাধ্যমগুলির ব্যব- হারিক প্রকাশ সর্ব ক্ষেত্রেই সুক্ষ, জটিল পরিশীলিত হয়ে ওঠে না উদ্দেস্টানুসঙগে সংযোগের প্রক্রিয়ায় তা কখনও স্ুল, কখনও সুক্ষ, কখনও জটিল-_-কখনও সরল রূপ পরিগ্রহ করে-_এই সত্য লোকমাধ্যম সহ সর্বপ্রকার সংযোগ মাধ্যমের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য | গ্রামীণ প্রথাগত মাধ্যম বা লোক মাধ্যমগুলি, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, সিনেমা

পাঁচ-

প্রভৃতির তুলনায় আপাতঃ স্থুল হলেও, জনসংশোগের ক্ষেত্রে এগুলির প্রাভাব অনেক বেশী সতেজ প্রতাক্ষ। আধুনিক কারিগরী বিদ্যার দিক থেকে আবহমানকাল প্রচলিত গণমাধ্যমগুলি তথাকথিত স্ুল হালেও সংযোগ-সংক্রমণের ক্ষেত্রে লোকমাধামগুলির সফলতা স্বতঃস্র্ত প্রশ্নাতীত। তাই নিঃসন্দেহে বলা মায় মে, লোকমাধামই শ্রেষ্ঠ গণ- মাধ্যম | মুদ্রাযন্ত্র, বেতার, দৃরদর্শন. সংবাদপত্র চলচ্চিত্র ভি. ডি. ও. প্রভৃতি জন মাধামগুলি মূলতঃ উপরিতলের সামাজিক কাঠামো আশ্রয়ী। বিপরীতক্ষমে লৌকসংস্কতিজাত লৌকিক মাধামগুলি ম্বকীয় চরিত্র বৈশিষ্ট্যে আপামর জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা নির্ভর সংযোগের শ্রেষ্ঠতম উপায় কি তা বলা কঠিন। অভিজ্ঞতা বিবর্তনের পথে ত৷ প্রতিভাত হাবে, তবে লৌকিক প্রকাশ মাধাম যে সাধারণ জনসনাঁজে সর্বাধিক সংমোখ-স-ক্রমণে সক্ষম দাবী নিঃসন্দেহে উত্থাপন করা যায়। বর্তমানে জন মাধ্যমগুলি শুধুমাত্র মন্ত্র নির মাস্ত্িক নয়. অধিকাংশ ক্ষোত্রে সেগুলি মানবিক অনুভূতি মূল্যবোধকে নির্বাসিত করে প্রমোদ গুল অবসর বিনোদন এবং ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধি একালের জন মাধামের প্রাধান উদ্দেশ্য ভোগবাদী সংস্কৃতির প্রসারে একালের স্বার্থাম্বেবী গোঠীনিয়ন্ত্রিত জন মাধামগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণের সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী গণবিরোধী মাধ্যমে পর্যবসিত। অবশ্য আধুনিক ংযোগ মাধ্যম বা! জনমাধ্যম-সমূহ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে সার্বজনীন কল্যাণমুখী হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে আধুনিক জন মাধ্যমের সুষ্ঠু সুস্থ ব্যবহারের প্র্মটিই সবাগ্রে বিবেচনার যোগ্য

পাঁচ

আধুনিক জনমাধ্যম সমূহের প্রচণ্ড গতিশীলতা সংযোগ-সংক্রমণের কার্ধকারিতার ক্ষমতা সুদূরপ্রসারী আধুনিক কারিগরী প্রীযুক্তি বিদ্যার সবোন্নত প্রকরণ সমুহের যথাযথ ব্যবহারে জন মাধ্যম সমূহ সামগ্রিকভাবে সংযোগ প্রক্রিয়ায় জনকল্যাণ সাধন করতে পারে এবং সংযোগগত দৃরত্বের অবসান ঘটাতে পারে গুাচজিত জন মাধ্যমের বিকল্প মাধ্যম হিসাবে লোক সংস্কৃতি ভিত্তিক লোকমাধ্যমের কথা বিবেচনা করা যায়। সংযোগ-প্রক্রিয়ায় লোক মাধ্যমের ভূমিকা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ সংযোগপ্রক্রিয়া় লোকসংস্কতির অবস্থান চরিত্র বিশ্লেষণ আধুনিক কালে সংযোগ বিদ্যার অন্ঠতম প্রধান অন্বেষ!। লোক মাধ্যম লোক সাধারণের নিজন্ব মাধ্যম, এতিহ্া-উৎ্সারিত হয়েও তা সদ চলমান এবং জনজীবনকে অঙ্গীকার করে নিয়েই তার সম্ভাব্য বিস্তার।

লোকসংস্কতিস প্রথাগত মাধ্যমের দ্বারাই সংযোগের স্বতঃস্ফূর্ত সেতুবন্ধন সম্ভব। লোকসংস্কৃতি জন্বস্ত্রে সমগ্টিগত আশা আকাজ্কার গ্রতিরূপ | বিষয় আঙ্গিক উভয় দিক থেকেই লোকসংস্কৃতি সমগ্টি- উচ্চারণে সম্বদ্ধ। লোকসংস্কতি শুধুমাত্র সমষ্টিগত স্বষ্টি নয়, তাব উপভোগের ব্যাপারটিও মুখ্যত ফৌথ। লোকসংস্কৃতির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে পরিবেশক শ্রোতা বা দর্শকের মধ্যে ব্যবধান প্রায় থাকেই না। শ্রোতাকে আনন্দিত, শোকার্ত, উত্তেজিত, উ:দ্বলিত করতে লোকসংস্কৃতির তুলনা নেই। এঁতিহ্যলীলিত লোক মাধ্যামে সাধারণ মানুষ জন্মগত ভাবে অভান্ত থাকে বলেই সংযোগের ক্ষেত্রে লৌকিক উপাদান-উপকরণের ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্ষপূ্ণ হয়ে ওঠে এবং তা স্থতঃস্ফুত্ডভাবে মানুষকে

পাঁচ-ও

অন্তরক্ষ করে নেয়। সংযোগের স্াত্রে লোকংস্কৃতির স্বকীয়তা গ্রভাব জনচিন্তে একান্তই প্রাত্যক্ষ তাতক্ষণিক। উচ্চসংস্কতিগত মাধামের ন্যায় তা৷ ছিন্নমূল মনন-সাপেক্ষ নয় এতিহোর দুঢমুল স্বতঃন্ফুর্ত সংযোগ সংক্রমণে সক্ষম-বিশিষ্ট প্রাকরণ। মার্কসীয় তাত্তের দৃষ্টিতে বলা যায় লোকসংস্কৃতিগত লোক মাধাম সমাজ-পরিবর্তনের প্রাযাত্রের অনুসঙ্গী এবং বৈপ্লবিক কার্মো- গ্োগের সহায়ক সমাজ সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে লোকপ'স্কতিরও পরিবর্তন ঘটে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বা প্রাযুক্তিবিদ্যার প্রসারের সাথে লোকায়ত মানুষের বা লোকসংস্কৃতির কোন বি'রোধাত্মক সম্পর্ক বা দ্বন্থ নেই। দ্বন্ স্থষ্টি হয় তখনই বখন তা৷ মুষ্টিমেয়ের স্বার্থে উদ্দেশ্টপ্রাণোদিত- রূপে নিয়ন্ত্রিত বা ব্যবহৃত হয়। যুগ-পারিপাশ্থিকের পরিবর্তনে লোক- সংস্কৃতির ক্ষোত্রে পরিবর্তন অবশ্যস্তাবী। বলা বাহুলা এই পরিবর্তনে লোকসংস্কৃতি বা লোক মাধামের চরিত্রের অঙ্গহানি ঘটে না। সমাজ- সভাতার অগ্রগতির ধারায় সর্বপ্রকার লোক মাধ্যমই যে সমভাবে বেঁচে থাকবে তার কোন স্থিরতা নেই অনেক ক্ষেত্রে লোকসংস্কৃতি বা লোক: মাধ্যমের অনেক বিষয় স্বাভাবিক ভাবেই লুপ্ত হতে পারে বা “মিউজিয়াম পিম্‌” হয়ে থাকাতে পারে। আনেক ক্ষেত্রে স্বার্থাম্বেধীদের অপব্যবহারে লোকদংস্কৃতির মৌলিক লোকচরিত্র ক্ষণ হাতে পারে। কিন্ত স্বীয় গ্রাণ- শক্তি সুস্থ পৃষ্ঠপোষকতার প্রভাবে লোক চরিত্রের স্বকায় বৈশিষ্ট্যের বিকাশ বিবর্তন সম্ভব

লোকসংস্কৃতির আবেদন মুখাতঃ গ্রাম্য অশিক্ষিত জনচিতে এমন মনে কবার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। পৃথিবীর সধত্র সংযোগ সংক্রমণে সর্বাধিক আধুনিকতার 'আধিপত্যের পাশাপাশি লৌকিক দাবীর ক্রম-

রাচ-চ

প্রাধান্য বিশেষজ্ঞগণ বিশেষ পপে লক্ষ্য করে থাকেন। সংযোগের ক্ষেত্রে লোক মাধ্যমের লোকরঞ্জন জনশিক্ষার ভূমিকা বা! সক্রিয়তার প্রসঙ্গ আজ প্রস্মাতীত। সংযোগের ক্ষেত্রে লোকস-স্কৃতির দ্বিবিধ ব্যবহার লক্ষ্য করা মায় আধুনিক সংযোগ মাধ্যমের অন্তর্গত বিষয় হিসাবে লোকসংস্কতির ব্যবহার এবং বিকল্প সংযোগের প্রত্যক্ষ মাধ্যমরূপে লোকসংস্কৃতির ব্যবহার শ্রোতা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ সংক্রমণের সার্থকতার জন্য লোক প্রচলিত মাধ্যম বা উপকরণে নান! প্রকার পদ্ধতি বা প্রকরণের নবতর অঙ্গীকার ঘটে দেশ কালের বাস্তবতায় এই ভাবে লোকসংস্কতি বা লোক মাধাম চলমান কাঙ্গের মতো উদ্ভী।সত হয়ে আবহমানকাল সঘসোগ-সংক্রমণে সার্থকতার দিশারী হয়ে চলে মাধ্যমগত প্রকৃতি বিচারে লোকসাহিত্য বা লোকসংস্কৃতির সংবাদ- মুখীনতার দিকটি বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় লোকসংস্কৃতির মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সংবাদজাতীয় বিষয় পরিবেশিত হয়, তা বলে সেগুলি সাংবাদিকতার নিদর্শন হয়ে ওঠে না। লোক সাংবাদিকতা লোকসাহিত্োের ন| সাংবাদিকতার অঙ্গ তা বিচার্য। লোকসাহিত্যের এক বিশিষ্ট অঙ্গ ফাংশান ব! কার্ধকারিতা, যার মধ্যে স*বাদ পরিবেশন ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া অন্যতম গ্রধান। লোকসাহিত্য বা লোৌকস-স্কৃতির এইরূপ সংবাদ সংযোগ সংক্রমণের কার্যকারিতা বিশিষ্টার্থে লোকসাংবাদিকতা নয়। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যে ভাবেই হোক না কেন, লোকসংস্কৃতির মধ্যে নান। প্রকার সংবাদমূলক বিবরণ বিরতি থাকতে পারে এবং তা সংযোগ কার্য সাধন করতে পারে লোকসংস্কৃতির এই দিকটি বিশিষ্টার্থে ফাংশান বা কার্ষকারিতার দিক, লোক সাংবাদিকতা নয়। লোক সংস্কৃতির নিজন্ব

র্পচ-ছ

নিয়মে টুনু, ভাছু, ঝুমুর, গন্তীরা, আলকাপ, বোলান, চোরচুরনী, মেস্ছেনী, খণ, সও মরুরপক্থী, ছড়া, কবিগান, ছে নাচ, পটচিত্র প্রাভৃতির মধ্যে নানা ভাবে বান্তব বিষয় ঘটনাদি গ্তিফলিত হয়। এবং অনেক ক্ষেত্রে তা বাৎসরিক সালতামামী রূপ পরিগ্রহ করে সত্য, কিন্তু সেগুলি লোক: সঙ্গীত লোকনাট্য, লোকশিল্প, লোকসাহিত্যাদি রূপে প্রিগণিত হয়, লোকসাংবা দিকতা হিসাবে নয়। সংবাদমুলক ব৷ সাংবাঁদভিত্তিক রচনামাত্রই যেমন সাংবাদিকতা নয়, তেমন সংবাদ পরিবেশক, লোকসঙ্গীত, ছড়া, লোকাভিনয় মাত্রই লোক-সাংবাদিকতা নয়। রাজনৈতিক সাংবাদিকতা, শিল্পগত সাংবাদিকতা, শিক্ষাগত সাংবাদিকতা, গ্রামীণ সাংবাদিকতা ক্রীড়া সাংবাদিকত। প্রভৃতির ন্যায় লৌকিক সাংবাদিকতা, সাংবাদিকতা শান্তর বা কার্ষের একটি শাখা, গুত্যক্ষরূপে লোকসংস্কতির অঙ্গ নয়। সংবাদপত্রের লক্ষণ বা সাংবাদিকতার ধর্মসমূহ লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে বিশেষভাবে অনুশ্থত বা প্রাতিপালিত হয় না, তাই এগুলিকে লোক- লাংবাদিকতা নামে বিশেষ অভিধায় অভিহিত ন1 করাই বিধেয়। লোক- সংস্কৃতির মধ্যে সংবাদ পরিবেশিত হয়, এবং সংযোগের ক্ষেত্রে লোক- সংস্কৃতিকে নান। ভাবে ব্যবহার বা প্রয়োগ করা হয় সত্য, কিন্তু লোক- সংস্কৃতি বিজ্ঞানের পরিভাষায় তা লোকসংস্কতিরই ব্যবহারিক প্রায়োগগত কার্ষকারিতার দিক তথা /২701164 01 10170010178] 8,5০০ 01 ম91810919.

বঙ্গ-ভারতীয় উপমহাদেশের মাধ্যম সংযোগ-বিষয়ক আলোচনায় নিমগ্ন হায়ে বিশেষভাবে স্মরণে রাখ প্রয়োজন যে আমাদের জন-সমাজের ক্হত্তম অংশ আজও গ্রাম্য জীবনধারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং সাক্ষরতা

পাঁচ

দারিদ্র সীমার নিদারুণ নিয়াঙ্কে তার্দের অবস্থীন। এই জনগোষ্ঠীর দিকে লক্ষ্য রোখে আমাদের দেশে মাধ্যম বার্তার যথাযথ ব্যবহার করা হয়নি। আমাদের দেশে সংযোগদাতা। বার্তাগ্রহীভার মধ্যে ব্যবধান ঘোচেনি, অধিকাংশ ক্ষোত্রেই সাধারণ জনগোষ্ঠীর কাছে বার্তা সজীব হয়ে ওঠেনি অনেক ক্ষেত্রে ভ্রান্তি বশতঃ যথাযোগ্য ভাবে সংযোগ-সাধনের ক্ষেত্রে অন্তরায় ঘটেছে এবং এঁতিহাগত বিশ্বীস মূল্যবোধ হারানোর ভীতিতে সাধারণ জনসমাজ দুরে সরে গেছে | মাধ বার্তা যথাযথ ব্যবহারের অভাবই সংযোগের কার্যকারিতাকে সংকুচিত করেছে বিভিন্ন ভাবে। একালের প্রচলিত জনমাধ্যমগুলি বনু দিক থেকে উল্লেখযোগা রমণীয় হালেও, গ্রচলিত লৌকিক জীবনধারার সঙ্গে তার একাস্মতার অভাব সংযোগের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ডেকে এনেছে তাছাড়া! আমাদের দেশে অদ্যাপি সংযোগ ব্যাপারটি মৃখ্যতঃ পুরাতন গুপনিবেশিক পদ্ধতিতে “[0009৬/1 [)01090955 01 %101091 17)0906 01 00111711109- (1০77” তথা উপর থেকে নিচু তলায় সংক্রমণের বা চু'ইয়ে পড়া পদ্ধতিতে থেকে গেছে। সংযোগের এই সীমাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য উদ্দেশ্য নুসঙ্ষে প্রয়োজন [70112017021 1771006€ ০৫6 001)17011710801011 বা প্রালম্বিত সংযোগ সংক্রমণ পদ্ধতির সুবিস্তাব। আজ বিশেষভাবে প্রয়োজন স্থানীয় জীবনধারা লোকসংস্কতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন, যা বার্তাদাতা৷ গ্রহীতার মধো মুখোমুখী জীবন্ত পরিবেশ (1906 0০ 908 1151115 51000861017 ) স্ষ্টি করতে পারে এবং স্বতঃস্কর্তভাবে যোগ-ক্রিয়াকে সার্থকতার পথে পরিচালিত করতে পারে বিজ্ঞীন মনন সাধনতার অগ্রগতির সঙ্গে সমাজ পারিপাশ্থিকের

পরিবর্তমুখীনতায় সংযোগ-সংক্রমণের মাধ্যম উপাদানের বিকাশ পরিবর্তন ঘটা স্বাভাবিক। কিন্তু জনচিত্তে স্বৃত্তিকাশ্রয়ী লোকমাধ্যমের আবেদন সক্রিয়ত] যে সর্বাধিক সার্থকতামুখী তথ্য প্রমাণিত সত্য তাই সংযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রয়োজন লোকায়ত মাধাম কাঠামো! সমূহের সম্যক্‌ ব্যবহার এই ব্যবহারের জন্ত লোকসংস্কৃতি বিজ্ঞানগত মাত্মপ্রস্তরতি একান্ত গ্রায়োজন লৌকিক মাধ্যমের ঘথামথ প্রায়োগের জন্ প্রয়োজন বাবসায়িক - সৌখীন দীক্ষিত প্রয়াস পরিহার। সংযোগ প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে লোকসংস্কতির উপাদান সমূহের বিজ্ঞানসম্মত সংগ্রহ, সংরক্ষণ বিচার-বিশ্বেষণ এবং বিষয়বস্তগত মাধ্যমগত দিক থেকে লৌকিক উপাদান সমূহের মথাযথ প্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন এর জন্য লোকসংস্কতিবিদ সংযোগ বিজ্ঞানীর সম্মিজিত প্রয়াস আবশ্টক। তাই বলা যায়--[1) 00111)00101090101) [79017901510 009118001981101) ০0 10110101151 8170 1৬1০018 [0901016 1708 ৮1610 ৮2 81)0001951116 0170 2090071৮5 15110, লোফসংস্কৃতিবিদ্‌ সংমৌগবিদের শৌথ সহায়তায় এমন পরিবেশ স্ষষ্টি করা সম্ভব যেখানে স্বতঃস্ফুর্তভাবে লোকসমাজই সংযোগ নংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। 'অবশ্টট এই বিবয়টি অত্যন্ত সচেতনতা বিচক্ষণতার সঙ্গে সদাধিত হওয়! প্রয়োজন, 'মন্যথায় তা লোককৃতি বা লোকসংস্কতির ( £9101919 ) পরিবর্তে লোকবিকৃত্তির (14781,06) আধার হয়ে উঠতে পারে। লোকস-স্কৃতি বিজ্ঞানের যথাপথ ব্যবহার উন্নয়নের বার্তা বা গ্রকল্প সমূহ প্রতিহাগতভাবে জনসাধারণের সচেতনাকে সমৃদ্ধ করতে গণউদ্ঠোগ

সাত

উন্মুক্ত করতে সফলকাম হযয়। সামগ্রিকভাবে বলা যায় সংযোগ সক্রিয়তার ক্ষেত্রে লোকসংস্কতিগত মাধ্যমসমূহ নিঃসন্দেহে আধুনিক জনমাধ্যম সমূহের সার্থক অত্যাবশ্যকীয় পরিপূরক হিসাবে বিবেচিত ব্যবহৃত হওয়া প্রয়োজন অন্যথায় বঙ্গ-ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট পরিস্থিতিতে সংযোগের গণ্চরিত্র বিকাশ সুদূর পরাহত হয়ে থাকবে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই সংষোগমাধ্যমের অনুশীলনে ব্যনহারে তৎপরতা প্রয়োজন। 0

০৯ সপ পপ পানে

সভাপতির ভাষণ 'অবলম্বনে লিখিত গ|কাশিত

আট

সঞ্জীব সরকার

সামাজিক-মর্থ নৈতিক-সাস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে সংযোগ-সমস্যা

আমরা এক পৃথিবীতে বাস করি, কিন্তু আমাদের অবস্থান ছ্‌ই মানচিত্রে এক মানচিত্রে সমৃদ্ধি ধশ্বর্ষের যাবতীয় চিহ্ন বর্তমান, অন্ মানচিত্রে দারিদ্র 'ও ক্ষুধার মহাসাগর আজকাল অবশ্য কেউ কেউ পৃথিবীকে তিনটি মানচিত্রে বা মেরুতে ভাগ করেন। সে যাই হোক, আমাদের অবস্থান যে মানচিত্রে বা মেরুতে সেখানে অভাব, দারিদ্র, নিরক্ষরতা শোষণই আমাদের নিত্যসঙ্গী |

সমৃদ্ধ প্রাথম বিশ্বই হো আর অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বই হোক সমাজট।

হচ্ছে শ্রেণীবিভক্ত

বিজ্ঞান প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে যার! সমাজে রাষ্ট্রে ক্ষমতায় অধিষ্টিত তার আরও পরাক্রমশীলী 5য়্ে উঠেছে তাদের আধিপত্যের হাত প্রসারিত হচ্ছে প্রথম বিশ্ব থেকে তৃতীয় বিশ্ব পর্ধন্ত সার! জগতে

যুগ হচ্ছে টেকনোলজির যুগ একথা বলা হয়ে থাকে জ্ঞানে বিজ্ঞানে মানবসভ্যতা এখন এক শীর্ধতম পর্ধ্যায়ে উপনীত হয়েছে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন জাগে, যে টেকনোলজির দৌলতে মানবসভ্যতার এতো! রমরম|, সে টেকনোলজি কাদের হাতে, কার! সেট! ব্যবহার করতে পারে।

অর্থনৈতিক তথ! রাজনৈতিক আধিপত্য যাদের হাতে. তারাই স্বাভাবিক কারণে তাকে ব্যবহার করতে সক্ষম। তাহলে সভ্যতার চাবিকাঠি কি তাদেরই হাতে যার! সংখ্যায় মুষ্টিমের, অথচ অপরিমেয় শক্তির অধিকারী? আর যার! সংখ্যায় অগণ্য সংখ্যাগরিষঠ, অথচ

ক্ষমতাবঞ্চিত, শোধিত, নিচের তলায় পড়ে থাক! এই মানুষগুলির সভ্যতা স্ষ্টিতে কি কোন অবদান নেই ?

একথ। আজ মনে রাখা দরকার, যারা টেকনোলজির ক্ষমতা রাজ- নৈতিক ক্ষমতা তথ! অর্থ নৈতিক ক্ষমত। কুক্ষিগত করে রেখেছে তারাই নিয়ন্ত্রিত করছে বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক গণ-মাধ্যম “মাস- মিডিয়া” নামে যা পরিচিত

পুথিবীকে পদানত জনগণেশকে শ্বপক্ষে আনার জান্য ব্যাপক প্রচার মগজ ধোলাই আবশ্ুক। এই কাজে “মাস-মিডিয়া” হাচ্ছে উপযুক্ত হাতিয়ার এই জন্টেই টেলিভিশন, রেডিয়ো, সংবাদপত্র, চলচ্চিত্র এই সব আধুনিক গণ-মাধ্যমগুলিকে তারা কজ1 করে রেখেছে এই মাধ্যমগুলি ব্যবহার করে তাঁরা তাদের ধ্যান-ধারণা, মূল্যবোধ, রুচি, আচার-আচরণ জনসাধারণের মধ্যে আকষণীয় করে ছড়িয়ে দেয়। স্থষ্টি করে এমন প্রত্যাশা, আকাজ। চাহিদা, যাতে তাদের কারখানার উৎপাদিত ভোগ্যপণ্যগুলি বিকায়।

এই ভাবে তারা সংস্কতির অঙ্গনে গুাবেশ করে এক ভোখবাদী সংস্কৃতির (09175917767 0০81101716 ) পতন করে। সংস্কৃতি হয় পথ্য বিক্রয়ের হাতিয়ারে পরিণত সুস্থ সংস্কৃতি, জনগণের সংস্কৃতির অবনয়ন ঘটায়। সমাজ রূপাস্তরের জন্চে সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে বিপথ- গামী করে।

বিশ্বকে, বিশেষত তৃতীয় বিশ্বাক শোষণ করার ক্ষেত্রে বনুজাতিক ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির মুখ্য ভূমিকা আছে।

বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে যে, পৃথিবীর ছয়টি বহুজাতিক সংস্থা পৃথিবীর যাবতীয় সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রিত করে থাকে সংবাদপত্র এখন তাই সংবাদের চেয়ে বিজ্ঞাপনের বাহন হয়েছে আমেরিকা মহাদেশের সংবাদপত্র সন্বান্ধে একটি সমীক্ষায় প্রকাশ, কাগজের আশি ভাগই পুর্ণ হয় নান! চটকদারী বিজ্ঞাপনে মাত্র ২০ ভাগে থাকেসংবাদ। বল। বাভুল্য মাত্র সে সংবাদ সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকা সংক্রান্ত নয়।

দশ

টেলিভিদনের প্রভাব আজকাল প্রচগ্ডভাবে পড়েছে, বিশেবতঃ মূল্যবোধ প্রত্যাশার ক্ষেত্রে বহুজাতিক সংস্থার বিজ্ঞাপন প্রচারের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার এই টিভি। এর মাধ্যমেই ভোগবাদী সংস্কৃতির ব্যপিক প্রচার প্রসার ঘটছে

টিভি-র প্রভাব প্রতিক্রিয়। তৃতীয় বিশ্বের যুবসমাজ শিশুদের উপর কি ভয়াবহ ভাবে পড়েছে, তার সমীক্ষাও অনেকে করেছে .

আসলে বন্ুজাতিক বিজ্ঞাপন সংস্থা সংবাদ সরবরাহ সংস্থাগুলি এই তথাকথিত মাস-মিডিয়াকে নিয়স্শ্রিত করে রেখেছে গণ- মাধ্যমগুলি বর্তমান সমাজব্যবস্থায় তাই হয়েছে গণ-বিরোধী মাধ্যম |

বিজ্ঞান টেকনোলজীর নতুন নতুন আবিষ্ষীর এই গণ-বিরোধী মাধ্যমকেই মদত দিয়ে যাচ্ছে তারই দৌলতে গণ-মাধ্যমগুলি বিশ্বের বুকে সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছে টেকনোলজিও ব্যবহৃত হচ্ছে মানব সমাজের সর্বনাশ ঘটাবার কাজে লোকসমাজের ভিত্তি ছিল্স পারম্পারিক আদানপ্রদান ভাব বিনিময়, তা লোপ পেয়ে গেছে। একমুখী গণ-মাধ্যমে পারস্পারিক আদ।নপ্রদানের স্থান নেই, স্থান নেই জনগণের স্জনশীলতার। মুক্তিদায়ী প্রক্রিয়ার বিরদদ্ধে মাসমিডিয়া নীরবতার সংস্কৃতির উদ্গীতা।

মান-মিডিয়া নিযে বিভিন্ন দেশের যে বিশ্লেষণ হয়েছে, তাতে এই সিদ্ধান্তেই আসা! যায় যে. বর্তমান কালে মাস-মিডিয়ার সঙ্গে টেকনো- লঞ্জির অশুভ মিলনের ফলে বিশ্বের বুকে অমিতপরাক্রমশালী এক বনু স্তর বিশিষ্ট হুষ্ট চক্রের সবব্যাপী ( £01%1)60701) জন্ম হায়েছে যার সঙ্গে যুক্ত আছে রুহৎ শিল্প গোষ্ঠী, মাথায় বসে আছে ইলেকট্রনিক নিউক্লিয়ার ইগ্ডাষ্ি-যাকে চালন। করছে বকুজাতিক সংস্থা সামরিক শক্তি। এই মহাঁচক্রের প্রবল বাহু জালের মতো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। তার থেকে রেহাই নেই তৃতীয় বিশ্বের মানুষের সুবিধা" ভোগী শ্রেণীর হাতে এনে দিয়েছে বিপুল বৈভব ক্ষমতা |

এই সর্বব্যাপী হৃষ্টচক্র ঘে কেবল রাজনৈতিক নৈতিক ক্ষেত্রেই

এগার

গুভাব বিস্তার করেছে তাই নয়, এর অনুপ্রবেশ ঘটেছে আরও গভীরে, মনোজগতেও পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে।

চতুর্থতঠ প্রযুক্তিগত শতির সমাজের-কাছে কোন দায়দায়িত্ব নেই, দৈনন্দিন জীবনে চালনা করার ক্ষেত্রে ঘেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকে এড়িয়ে চলে, তা সত্বেও দেশ-কাল-পাত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, নিজেকে কোনরকম নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে

এই দিকগুলি বিশ্লেষণ করে একজন সমাজবিজ্ঞানী রায় দিয়েছেন __

প্াযুত্তি বিগ্ঠা এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যা অতি বিরাট জটিল, যাঁকে কেন্দ্রীয় ভাবে স্থুনিয়ন্ত্িণ করা সম্ভব নয়, ব্যক্তিগতভাবেও নয়। এর ফলে এর বিপর্ষয় অবশ্থস্তাবী। এবং যেহেতু শিক্প-সভ্যতার সঙ্গে এর অঙ্গার্ষি যোগ, আজকের সমৃদ্ধ এই শিল্প-সভ্যতার ( 1105019) 61111780101) ) অধঃপতন অনিবার্ধ

এই অনিবার্ধতার কথা সবাই হয়ত স্বীকার করে নেবেন না

কিন্তু একথ! অস্বীকার করতে পারবেন না, আমরা সভ্যতার এক বিপর্যয়কর অবস্থার সম্মুখীন হয়েছি

প্রযুক্তিরিজ্ঞান বিজ্ঞান আজ যাদের নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতার মধ্যে চলে গেছে তারাই মানবসভাতাকে এই বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে) :

সারা-বিশ্বের এই পটভূমিতে আমাদের দেশের কথা বিবেচনা করতে হবে। . প্রখানকার সংস্কতি,ও সংযোগ-মাধ্যম এক বিচিত্র জটিল প্রক্রিয়ার শিকার দীর্ঘ গ্পনৈবেশিক শাসনের ফলে দেশীয় সংস্কৃতি বাদ দিয়ে এখানে এক গুপনিবেশিক সংস্কৃতির পত্তন হয়েছে ।' এর পুরোধা হচ্ছে সহরাঁঞ্চলের এলিট.শ্রেণী। এরা যে সংস্কৃতির উদ্গাতা তার মূল মন্ত্র এসেছে শিল্লোব্লত পথম রিশ্ব থেকে প্রথম বিশ্বের 'শিল্পসভ্যতাকে' সার্জনীন সভ্যতা, যুগের মভ/ত। বলে প্রচার কর! হয়েছে স্বাধীনোত্বর যুগে আশির দশকে এসেও নিজন্ব সংস্কৃতি মাধ্যমকে অস্বীকার করে এই তথাকথিত প্রযুক্তি সভ্যতাকে অনুকরণ করে নিজেকে উন্নত করার প্রয়াস আরও জোরদার হয়েছে ।. দেশের

বার

'ধনিকগোতী, বিশ্বব্যা সী হৃষ্টচক্রের (৪০1১1৩00017) অঙ্গ হিসাবে তার বাহু বিস্তার করে চলেছে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে, সংযোগ মাধ্যমের ক্ষেত্রে, 'জীবনের সর্বক্ষেত্রে |

আমাদের নেতারা সবদাই তথাকথিত উন্নত দেশের উন্নত কলা কৌশল প্রযুক্তিবিষ্া আমদানী করতে লালায়িত।

এতে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষদের আধুনিকীকরণ কি হয়েছে জানি না, কিন্তু বহুজাতিক সংস্থা সমর-শিপ্লের ফলাও কারবার হয়েছে, তাদের কুটজাল আরও পোধিত হয়েছে এবং সম্বদ্ধশালী শ্রেণীর সমৃদ্ধি ক্ষমতা আরও বেড়েছে অপসংস্কৃতির জোয়ারে আজকের যুবসমাজ উন্নতজীবনের সংগ্রাম থেকে দ্বরে সরে গেছে।

ভারতের মাস-মিতিয়া প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা

এতোক্ষণ ধা আলোচন। কর! হোল, তার পরিপ্োক্ষিতে আমাদের দেশের মাস-মিডিয়াকে বিচার করা যাক

আমাদের দেশে অধিকাংশ লোকই থ।কে গ্রামে এবং মিরক্ষরের সংখ্যা অনেক বেশি কাজেই লিখিত মাধ্যমের প্রচার সীমাবদ্ধ

সারা ভারতে প্রায় ১৯ হাজার পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১৩৪টি এদের মোট প্রচার সংখ্যা ৫* লক্ষের কিহ বেশি! এই সংখ্যার ৯৩ ভাগই বিক্রি হয় সহরাঞ্চলে সমগ্র লোকসংখ্যার মাত্র ১* ভাগ হচ্ছে এরা

এই মুষ্টিমেয় ১» ভাগ জনসমষ্টিই হচ্ছে তথাকঘিত জনমতের নিয়ন্ত্রক শিক্ষা সম্পদের ক্ষেত্রে এরাই পুরোভাগে কাজেই সংবাদপত্রের প্রচার ব্যাপক না হলেও প্রভাব বিকাশ জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে আমাদের মতো নিরক্ষর দেশেও সংবাদপত্র একটি শক্তিশালী মাস-মিডিয়া তাই বৃহৎ ধনিকগোঠী,

(তের

ক্ষমতাবান শ্রেণী রাজনৈতিকগোষ্ঠী সকলেই আপন আপন স্বার্থে এই মাধ্যমকে ব্যবহার করতে সদাই তৎপর

সংবাদপত্র আজ রূহৎ ইন্ডাষ্ত্িতে পরিণত। যার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন, তার সঙ্গে জনমতকে আয়ত্তে রাখাও একটি উদ্দেশ্য উন্নত দেশের মতোই সংবাদপত্র ক্রমশই বিজ্ঞাপনমুখী হয়ে উঠেছে কারণ বৃহৎ শিল্প-বহুজাতিক ব্যবসায় সংস্থার অঞ্তভ আতাত দৃঢ়বদ্ধ

হয়েছে। আমরা বাংলা পংবাদপাত্রের এক সপ্তাহের এক সমীক্ষায় দেখেছিলাম,

৪, ভাগ থাকে সংবাদ আর ৬* ভাগই বিজ্ঞাপনে ভতি। গতিট? কোনদিকে এতেই বোঝ যাবে।

সংবাদ য1 থাকে ত। বি্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশই জাতীয় আন্তজাতিক স্তারের খবর যার সঙ্গে দেশের আশি ভাগ মানুষের কোন সংযোগ ব। প্রাসঙ্গিকতা৷ নেই সংবাদপাত্রের খদ্দের তো সহরাঞ্চালর মাত্র ১* ভাগ সুবিধাভোগী মানুষ এই ১০ ভাগ লোকের কথাই বেশি স্থান পায়। গ্রামাঞ্চলের মানুষ সারা দেশের ৮* ভাগ তারা! স্বভাবতই হয় অবজ্ীত। তাদের কথ তাদ্দের জীবন তার খবর স্থান পাবে কেন ?

মাসমিডিয়ার সব চেয়ে প্রসারিত মাঁধাম হচ্ছে রেডিয়ো। প্রায় তিন কোটি রেডিয়ো সেটের মধো ৮* ভাগই হচ্ছে সহরাঞ্চলের পরিবারের মধ্যে আবদ্ধ। সমীক্ষায় প্রকাশ প্রায় ৬* লক্ষ সেট আছে গ্রামাঞ্চলের ৫২ কোটি মানুষের। আমরা পুরুলিয়া ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন গ্রামে সমীক্ষা কারে দেখেছি মোট লোকসংখ্যার মাত্র ১৭ শতাংশের ট্রানজিস্টার আছে

রেডিয়ো ষ্টেশনের বাক্তিগত মালিকানা নেই এখানে ' ভারত সরকারের একটি সংস্থা আকাশবাণী কাজেই সরকারের বক্তব্য নীতি সরকারী নেতৃত্বের ভাবমুদ্তি প্রচারের মাধ্যম হিসাবেই প্রধানত রেডিও, ব্যবহৃত হয়। সরকারের শ্রেনীণ্চরিত্র এই মাধ্যমটির মধ্য দিয়ে পরিষ্ফুট

চোদ্দ

অন্যদিকে এর বিভিম্ন অনুষ্ঠান-স্থুচীর মাধ্য বিজ্ঞাপন-স-স্থার প্রাধান্য শ্রোতাদের প্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে হিন্দি চলচিত্রের গ্বান, ব্যবস্থারী সংস্থার প্রমোদমূলক নাটিকা, চুটকি, হাসি-মঞ্চর প্রস্থৃতি।

প্রমোদ-মাধ্যমের স্বাম্প্রতিক সংযোজন হচ্ছে টেলিভিশন দিল্লী সহারে ১৯৫৯ স্বালে প্রথম টিভি চালু করে ভারত সরকার শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়েই নাকি টিভি প্রতিষ্ঠা করা! হয়। কিন্তু বর্তমানে রডীন ছবির দৌলতে বিজ্ঞাপনাতা সংস্থার দৌরাস্ম্যে সেই উদ্দেশ্য প্রায় নিবাসিত। এখন প্রমোদ অবসর বিনোদনই টেঙ্সি- ভিশন দর্শকের বড়ে প্রত্যাশা সংযোগ শিক্ষা এখন শত হপ্ত

দুরে। সহরাঞ্লেই টিভির প্রসার। কয়েক বছরের মধ্যেই টিভির সখ্য

অনেক বোড়ে গ্রেছে। কলকাতা সহরে লাইসেলপ্রাপ্ত টিভে সেটের সখ্যা ছিল ২৩৭, ৪৪৫টি এখন আরো! বেশি সহরের মধ্যবিত্তের মধ্যেই টিভির জনপ্রিয়তা সীমাবদ্ধ

সপ্রতি দিলীর 148019021 17501001501 11581601) 2180 [211111) /০11816 এর 15108110191) 01 (5917)17) 00111980101) মাধ্যম বিষয়ে সমীক্ষা! চালিয়েছিলেন রাজস্থানের চারটি জেলায় এই সমীক্ষায় প্রকাশ যে, গ্রামাঞ্চলে টিভির জনপ্রিয়তা নেই এবং তার

গ্রাভাবও খুব সীমাবদ্ধ আমর! পুক্রলিয়। সাঁড়গ্রামের অনেকগুলি গ্রামে সমীক্ষা করে

এঁ একই সিদ্ধান্তে এসেছি একটি নমুনা সনীক্ষায় প্রকাশ--১৩৩০৪ টি টিডি সেটের মধ্যে ৭৫ ভাগই হচ্ছে হাই স্কুলে উত্তীর্ণ শিক্ষিতদের। এরা বিদ্যা অর্জন করেছে, বিত্তবান বলেই কিভাবে টিভির অনুষ্ঠান-সুচী তৈরী করা হয়. কার করে, কাদের কথা মনে রেখে-_এসব প্রন্ম বিচার করলে এই সব কথাই বেরিয়ে আসবে বে, সহাবের এলিট শ্রেণীই এর মধ্যমণি তাদের কালিচার, তাদের কথাই

পনের

প্রতিফলিত হয় এর মধ্যে এমন কি লোকসংস্কৃতির যে নমুনা উপস্থিত কর হয়, ত1 হয় বিকৃত, না হয় মধ্যবিত্ত বাবুর দৃষ্টিভঙ্গীতে।

বর্তমান সমাজ কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক মাসমিডিয়ার চরিত্র হচ্ছে গণবিরোধী ক্ষমতাবান শ্রেণী তার বশংবদ এলিট গোষ্ঠীর ধ্যানধারণ, ভাবাদর্শ, মুল্যবোধ, রুচি আচারআচরণে প্রচারের শক্তিশালী যন্ত্র। মাধ্যম একমুখী, কেন্দ্রীভূত। নুতরাং পার০।রিক আদানগ্রদানের ব1 ভাব প্রকাশর ক্ষেত্র অনুপস্থিত। স্মুতরাং হচ্ছে নীরবতার সংস্কৃতির উদ্গাতা। মাধ্যম অনুভূতিকে নিবাপিত করে, জিজ্ঞাসার অস্ত ঘটায়, বোধশক্তি স্থজনীক্ষমতাঁকে খব করে। |

কমু.নিকেশনের মূল অর্থ পারস্পারিক আন্তরিক সংযোগ-_তা হয় নিবাসিত।

এই পটভূমিতে ব্যাপক জনগণের ন্থার্থে বিকল্প মাধ্যমের কথা 'আসে। বিকল্প মাধ্যম উৎসারিত হয় মেহনতি মানবের স্থজনীক্ষমতা থেকে, তাদের নিজন্ব আঙ্গিক প্রকরণের উপর ভিত্তি করে।

মাধ্যম চেতনার উদ্বোধক এবং মুস্তিদায়ী প্রক্রিয়ার অঙ্গ। সত্যিকার আন্তরিক সংযোগ এর দ্বারাই সাধিত হতে পারে -

লোকায়ত সংস্কৃতির ধারার উপর ভিস্ত্ি,করেই মাধ্যম গড়ে উঠাতে, পারে।

কারণ, লোক মাধ্যম হচ্ছে গ্রামের অগণিত মানুষের নিজন্ব মাধ্যম, আবহমান কাল থেকে য। চিরপ্রবাহমান সজীব সঙল। তাদের চেতনা, বোধ অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা মাধ্যম স্বীয় পটভূমিকায় আপন প্রয়োজনে জনগণ থেকে উৎসারিত ফোন ধার কর! মাধ্যম নয়, বা কোন আরোপিত উপায় নয়। এগুলি গ্রামের বা সহারের মেহনতি মানুষের দৈহিক, মানসিক দক্ষত! দিয়ে তৈরী, তাদের বুদ্ধিগত, ভাবগত উপলব্ধির মধ্যে বিকশিত, তাদের, কল্পনার জগৎ ঘিরে এর বিস্তার। আধুনিক প্রায়োগ বিদ্যার উপর নির্ভরশীল 'নয়, হদিও

যোল

সহজলভ্য হালে তাকে ব্যবহারে বাঁধা নেই। সমাজ পরিবর্তানের সাথে সাথে এ-ও পরিবর্তনশীল

লোকসংস্কৃতি অপরিবর্তনীয় নয় সমাজ জীবনের পরিবর্তনের সাথে স।থে লোকসংস্কাতির রূপ বক্তব্য পরিবতিত হয়। সেদিক দিয়ে লোকসংস্কৃতি চিরায়ত হায়েও সমকালীন

আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় সংযোগ সাধনের ক্ষেত্রে লোক- মাধ্যামর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে একথা অনেকেই স্্রীকার করেন

তথাকথিত গ্রণ-মাধ্যমগুলির প্রচণ্ড প্রতাপ গণ-বিরোধী ভুমিকায় চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তাই অনোকই মুখ কিরিয়েছেন প্রচলিত লোক মাধ্যমের দিকে

সংবোগ সাধন জনগণের সংগঠিত হবার ক্ষেত্রে গুচলিত লোক- সংস্কৃতির ভূমিক। চরিত্র বিশ্লেষণ করার উদ্দেশ্যে বিগত ছু বছর বিশ্বের চারটি দেশে সমীক্ষা কার্য চালানে। হায়েছে। মেকসিকো, ফিলিপাইন, কেনিয়া ভারতবর্ষে এই সমীক্ষা সমা গু হয্যাছ।

এই সমীক্ষারই অঙ্গ হিসাবে আমর! পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম উত্তরবঙ্গের অনেকগুলি গ্রামে অনুসন্ধান-কার্য চালিয়ে তথাকার লোক- সংস্কৃতির রূপ ভূমিকা বিগ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি

বর্তমান সংকলন সেই ক্ষেত্র গবেষণারই ফসল [শু

বীরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়

বঙমান সমাজ ব্যবস্থা লোকমাধ্যম

এক

টিভি, বেতার, দংবাদপজ

জনগণের সামনে বক্তব্য প্রচারের জন্য কোন না! কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রাধানতঃ কয়েকটি মাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচারিত হয়ে থাকে। যেমন £ ১- টিভি, ২* বেতার, ৩. সংবাদপত্র এই তিনটি হলো শত্তিশালী গরচার মাধ্যম কিন্ত আমাদের গরীব দেশে শহর অঞ্চলে ধনী এবং উচ্চ মধ্যবিভ্াদের বাড়িতে শুধু টিভি দেখা যায়। বর্তমানে নিয় মধ্যবিত্বদের মধ্যে টিভি ক্রয় করার ঝৌক দেখ। দিয়েছে তবু বলা যেতে পারে, শহর অঞ্চলে গরীব, নিম্ন মধ্যবিত্তের ঘরে এবং বনু বস্তিতে টিভি ব্যাপক ভাবে ঢুকতে পারেনি পশ্চিমবাংলার অধিকাঁশ অধিবাসী সুদূর গ্রাম অঞ্চলে বাস করেন 1 গ্রামে টিভি দেখার প্রশ্ন ওঠে না কেন না, অসংখ্য গ্রামে আজও ইলেক্ট্রিক পেঁছীয়নি। এবার টিভি অনুষ্ঠানগুলির কথায় আসা যাক। টিভিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মতে! অনুষ্ঠান দেখানে। হয়। অধিকাংশ বিষয়ের আয়োজন করা হয় উচ্চবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত সমাজের ভালে লাগার মতো অনুষ্ঠান মাঝে মাঝে শহারের ছেলে- মেয়েদের গ্রামীণ এবং আঞ্চলিক পোশাক পরিয়ে কয়েকটি লোকনৃত্য পরিবেশন করতে দেখা গেছে বিভিন্ন জেলা গ্রামের লোক উৎসব, লোকনৃত্য একবারে যে দেখানো হয়নি তা নয়। কিন্তু তার সংখ্য! খুব অল্প। এই গুসঙ্গে আর একটি কথ উল্লেখ করা প্রয়োজন,

আঠার

কলকাতা শহরে ধীদের বাঁড়িতে টিভি আছে, তাদের অনেকে দরজার খিল দিয়ে টিভি দেখেন। এর ফলে একই বাড়িতে একাধিক টিডির এস্টেনা চোঁখে পড়ে যেখানে এক সময় শহর গ্রামে দল বেঁধে নর-নারী কথকথা, পাঁচালী, মনসামঙ্গল গান গুনতো। বর্তমানে একসঙ্গে ব। লোপ পাচ্ছ। টিভি দরজায় খিল দিয়ে বসার দিকে নিয়ে চলেছে প্রযুক্তিবিদ্যা আমাদের টেনে নিয়ে চলেছে বিচ্ছিপ্রতার দিকে।

ব্যক্তি-কেক্দ্রিক মানসিকতার দিকে দ্বিতীয় মাধ্যম বেতার। বেতার একটি শক্তিশালী প্রচারের

মাধাম। এই কথায় কোন বিতর্ক বোধ হয়ে উঠবে না লুদূর গ্রামে ছোট ছোট ব্যাটারি চালিত বেতার অনেক চীবী, সাইকেলরিকস। চালক। পাঁনের দোকানেও দেখা যাঁয়। বন নর-নারী বেতার শোনে বিশেষ করে কৃষিকিখা, স্থানীয় সংবাদ ইত্যাদি অনেকের ভালো লাগে। স্রীওতালী অনুষ্ঠান সাওতাল সমীজে অনোর কাছে প্রিয় হয়েছে। অনেক গ্রামে এক জায়গায় জড়ো হয়ে বেতারে গ্রামীণ অনুষ্ঠান শুনতে দেখা যায় বেতারেও অধিষ্কাৎশ লোকসংগীত শহরের মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে-মেয়ে গেয়ে থাফেন। গ্রাম-বাংলার অনুষ্ঠানগুলিতে গ্রামের শিল্পীদের গানও শোনা যায়। ক্িত্ত খুব বেশি নয়। গ্রা.মর কথায় আলোচনা কিংবা লোকসংগীত নিয়ে ছিছু বলার সময় গ্রামের লোক: শিল্পীদের বাদ দিয়ে বললে বক্তব্য অসম্পুর্ণ থেকে যায়। টিভি এবং বেতার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচার যন্ত্র। প্রচারের বিষয় ফেন্ছ,য়

সরকারের ছাকে ফেল! বক্তব্য গ্রচার করা হয়। তৃতীয় শক্তিশালী মাধ্যম & সংবাদপত্র এখানে আমি নিক্ষের

কোন বক্তব্য রাখছি না। বিভিন্ন জেলায় গ্রামের সাধারণ মানুঝ, অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছোট দোকানদার লোকশিল্পী।র সঙ্গে কথা বলার সময় যে সব মন্তব্য গুনেছিলাম, তাদের সেইসব বক্তব্য এখাঁনে কয়েকটি ভাগে ভাগ কবে তুলে ধরা হালো

অনেকের ধারণ, সংবাদপত্রগুলি বর্তমানে শহর অঞ্চলের ধনী,

উনিশ

মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের ঘরে বেশি যায়। টনিক সংবাদপত্র শহর অঞ্চলে বিক্রি বেশি, সংবাদও থাঁকে শহরের

জনৈক প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী বলেছিলেন, এক সঃয় বড় কাগজ- গুলি গ্রামের কথ। বেশি লিখতো৷ এই কারণে গ্রামে গ্রামে সেদিন স্বাধীনতার সৈনিক প্রচুর দেখা গিয়েছিল। তাদের সেদিনের ভূমিকা ভুলে যাবার নয়।

গ্রামের আনেকে উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ সুদূর গ্রামে ঘরে ঘরে আজও সংবাদপত্র ঢুকতে পারেনি

প্রাথম কারণ. গ্রামের মানুষের আথিক অবস্থা ভালো নয়। বর্তমানে ৭০1৮*।৯০ পয়সা দিয়ে কাঁগঞ্জ ক্রয় করার ক্ষমতা অনোকের নেই

বাঁকুড়া জেলায় জনৈক প্রবীণ শিক্ষক বলেছিলেন, এক সময় বাংলা অগ্ধ সাগাহিক কাগজ গ্রামে আসতো গ্রামের মানুব কম খরচে প্রায় দৈনিক কাগজের সংবাদ পাঠ করতে? সেই ধরণের অর্দ সাপ্তাহিক

আরি দেখা যায় না। দ্বিতীয় কারণ, নিরক্ষরতা।

তৃতীয় কারণ, যে সব সংবাদ বেতারে শোনা যায়, অধিকাংশ সেইসব সংবাদ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। কয়েকজনের ধারণ, বেতার য। শুনেছি, আবার সেই সংবাদ জানার জন্য পয়সা খরচ করবো কেন? যদিও এই কথা৷ কয়েকজনের মুখে শুনেছিলাম

চতুর্থ কারণ. সংবাদপত্রে গ্রামের কথা জেলার কথা স্থান পায় অতি সামান্য কাঁগজে সংবাদ থাকে অল্প, বিজ্ঞাপন বেশি চোখে পড়ে।

পঞ্চম কারণ, অধিকাংশ গ্রামের সাধারণ গরীব মানুষের সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস নেই।

ষষ্ঠ কারণ, গ্রামে যাদের টাকা-পয়ম। আছে, তাদেরও কাগজ ক্রয় করে পড়ার অভ্যাস অনেকের হয়নি

সপ্তম কারণ, সংবাদপত্র ঘে একটি প্রচারের শক্তিশালী বাহন, সুদূর গ্রামের বহু গ্রামবাসী এই কথায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়না

কুড়ি

এখন প্রাশ্ন আধুনিক প্রচারের মাধামের দিকে ন! তাকিয়ে কি ভাবে গ্রামের অসংখ্য নর-নারীর সামনে বক্তব্য ভুলে ধরা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর পাঁওয়া যাবে, সেকালের গ্রামীণ গণমাধানগুলি নিয়ে আলোচনা করলে।

তুই হার্ট, মেলা, গ্রামীণ লোকনাটা, যারা, পথের নাক, আলকাপ, লেটো, মাছানি

গ্রাম শহরের সাধারণ মানুষ চিরদিন অন্যারের বিরুদ্ধে কয! বলেছে সাধারণ মানব নিশীড়িত জনের হয়ে প্রতিবাদ করোন্ে। যেখানে অন্যায় দেখেছে, সমাজবিরোধী কাজ চোখে পাড়া, সেইসব কথ দলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা আমরা দেখেছি গ্রামের মানু বিভিন্ন ধরণে বা রীতিতে প্রচার করতেন ভীদের বক্তব্য তুলে ধরাতেন নানা ভাবে জনগণের কানে প্রচাবের ভালে! জায়গা, ১. হাট, ২. মেলা, ৩. গ্রামীণ লৌকনাট্যের আপর।

সমাজে অনাচারের কখা জনসমাগম বুল হাটের মাঝে গ্রাকাশ করার রেওয়াজ এক সময় আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল এই প্রাসঙ্গে াঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'হাটে হাড়ি ভাক্ষা' লেখার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ কর! হলো £ “একটা খাসী বলিদান দিয়া তাহারই নাড়ীভুড়ি এঁ ছাড়িতে পোরা হইত খানা-পিনা শেষ হইলে, অভিযোক্তা তাহার অভিযোগের কথা বর্ণনা করিতেন তাহা শুনিয়া ঘেঁট হইত। প্রায়শঃ লাম্পটোর অভিযোগই করা হইত ।”*"" তাহার পর এই নাড়ীভু ডিপূর্ণ হাড়ি মাথায় করিয়া হাটের দিন একটা কেন্ত্রস্থ বড় হাটে উপস্থিত করিতে হইত হাট যখন জমজমা৷ চলতেছে, তখন হাটের মধ্যস্থলে কুৎসা কীর্তন করিয়া আছাড় মারিয়া হাড়ি ভাঙ্গা হইত ।' |

একুশ

সেকালে হাটে ওই ভাবে দশের সামনে সমাজবিরোধী কাজের গ্রাতিবাদ করা হতো৷। অধিকাংশ, ক্ষেত্রে থাকতো কেচ্ছা-কাহিনী | এই প্রসঙ্গে আর একটি কথ! বল1 দরকার, বর্ধমান জেলায় যে হাঁটে হীড়ি ভাঙা হতো তার উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯৪৫ সালের একটি' গানে বর্ধমনি জেলার কাটোয়া থেকে গানটি সংগ্রহ করেছিলাম ওই সময় কোন এক অসৎ ব্যবসায়।কে লক্ষ্য করে সঙের মুখ দিয়ে বলা হয়েছিল হাঁটে হাড়ি ভাঙবে লোকে, / পড়বি ধর সবার চোখে | চোরা-চালানী বলবে সবে, / লাভের খেল তখন হবে। ওই রকম আরও কয়েকটি গান ছড়। 'হাটে হাড়ি ভাঙার' কথা শুনেছিলাম যেমন £ ভাঙ ভাঙ ভাই, আজ হাটে হাঁড়ি, চৌর1 ফৌট। কেটে, দেখ চড়ে গাড়ি চোরা স্ষধার অন্ন, লুকিয়ে রাখে, চাল, চিনি, ময়দা, বস্তায় ঢাকে। এই গান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় চোঁরাকারবারীদের বিরুদ্ধে রচিত হয়েছিল৷ একসময় গ্রামীণ মেলায় বু নর-নারীর ভিড় হাতো। আজও ভিড় হয়ে থাকে গ্রামীণ মেলার অনেক পরিবর্তন হয়েছে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে লোকসংগীত, লোকনাট্য। কিস্তু ভিড় আজও চোখে পড়ে এই ভিড় দেখে এক সময় লোকনাট্যের দল মেলায় দাড়িয়ে গান অভিনয়ের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য প্রচার করতেন। সেকালে গ্রামীণ যাত্রাগানে সমাজে ন্তায় আদর্শ, সততা ইত্যাদি প্রচার করা হাতো গ্রামীণ যাত্রাগানের ভেতর দিয়ে ধর্মের জয় এবং অধর্মের পরাজয় এই কথা সেকালের পালাকারেরা ভুলে ধরতেন যাত্রাগানের 'বিবেক' মাঝে মাঝে আসরে ছুটে এলে গান গেয়ে স্ায় সত্যের বাণী প্রচার করতেন স্বদেশী আন্দোলনের সময় কলকাতায় ষাত্রাদলের লোকেরাও নীরব

বাইশ

ছিলেন না। হ্বদেশী আন্দোলনের ব্যাপক প্রচারের জন্ত কয়েকটি সাত্রাদল চেষ্টা করেছিল। ভোঙলানাথ কাব্যশান্ত্রী শ্বদেশী আন্দোজনে রাঁজবন্দী অনশন আন্দোলন নিয়ে একখানি যাত্রার পালা রচনা করেছিলেন সেকালের জনপ্রিয় যাত্রীর পালাকার হরিপদ চট্টোপাধায় 'রণজিৎ রাজার জীবন যজ্ঞ” পালা লিখেছিলেন মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রাগান গেয়েছিলেন। বিদেশী শীসন শোবণের বিরুদ্ধে প্রচারে গাত্রাগানকে ব্যবহার করেছিলেন

মুকুন্দদাসের পূ নাম ফজ্ঞেপ্বর দে। বরিশালের ( বর্তমানে বাংলাদেশ ) রদ্ধরা আদর করে যজ্ঞা' বলতেন। পিতার নাম-_- গুরন্দয়াল দে। ঢাকা জেলাৰ বিক্রমপুরের (বর্তমানে বাংলাদেশ ) অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর! গ্রামে মুকুন্দদাস জন্মগ্রহণ করেন।

তত্কালীন ইংরেজ সরকার শঙ্কিত হয়ে গানের ভেতর থেকে বাজদ্রোহকর উক্তি আবিষ্কার করে তাকে কারাগারে প্রেরণ কার্ছিল। শুধু তাই নয়, ধাত্রাগান চলার সময় তিন কয়েক জায়গা! থেকে ইংরেজ সবকার কর্তৃক বহিষ্কৃত হায়েছিলেন। আনেক জায়গায় তার যাতায়াত করাও নিষিদ্ধ হয়। মুকুন্দদাসের কগে একটি গান খুব বিখ্যাত হয়েছিল সেই গানটি রচনা করেছিলেন, কবি “হুমচন্্র মুখেপাধ্যায়।

গানটি হলে এই £ সাবধান সাবধান 1!

আসিছে নামিয়। ম্ভায়ের দণ্ড রদ্রদী গু মুত্তিমান শোন তার গরজে কন্ধু অন্ুধি যথা উচ্ছলে

প্রলয় ঝঞ্চা ইরশ্বদে ম্বত্যু ভীষণ কলোলে। -উত্যা্দি

মুকুন্দদাসের যাত্রাদল বিহারের নান! স্থানে 'অভিনয় করে জন- সাধারণের সামনে পললীসংক্কার, শিক্ষাস-স্কীর, দেশগ্রীতি ইত্যাদি কথ! প্রচার করেছিলেন। ১৯২৬ সালে রাচি, জামসেদপুর প্রভৃতি বিহারের

তেইশ

কয়েকটি শহরে মুকুন্দদাসের দল চিত্বাকর্ষক অভিনয়ের জন্য অনেকগুলি রৌপ্য স্বর্ণ পদক লাভ করেন। মুকুন্দদাসের যাত্রার পাল! ডক্টর রাজেক্রপুসাদ হিন্দী তর্জমার ব্যবস্থা করেন। উদ্দেশ্য ছিল মুকুন্দদানকে দিয়ে বিহারের জনপাধারণের সামনে পালাগুলি দেখিয়ে লোকশিক্ষার ব্যবস্থা করা তখন স্বদেশী আন্দোলন ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল স্বদেশী আন্দোলনের উদ্দীপনায় চঞ্চল হয়ে ও.ঠ দেশের সাধারণ মানুব। সেই সনয়ের কথা ওই সময় যশোহারে ( বর্তমানে বাংলাদেশ ) মুকুন্দ- দাসের বিভিন্ন যাত্ডার পাল। কয়েক জায়গায় অভিনীত হয়েছিল। অসংখ্য শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে মুকুন্দদাসের যাত্রাগান শুনেছিলেন। ওই সময় মাতৃপুজা" নামে পালাটি ইংরেজ সকার নিষিদ্ধ করেছিল মুকুন্দদাস ওই পাল! অভিনয় করতে চান নি। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা! এঁ পাল শোনার জন্য উৎসুক হয়ে স্থানীয় থানা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ

করেন। থানা অফিসার সকলের বিশেব অনুরোধ আগ্রহের জন্য নিজে

সরকারী বঝঞ্চা,টর দায়িস্ব নিয়ে থাঁনা প্রাঙ্গণের ভেতর মাতুপুজ' অভিনয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন হদেশী যাত্রার ইতিহাসে ইহাও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বললে বোধহয় ভুল হবে না। 'মাতৃপুক্জা' যাত্রাগানে তৎকালীন সরকার শঙ্কিত হয়ে পালার কয়েকটি গানের মধ্যে রাজদ্রোহকর লাইন আবিষ্কার করে মুকুন্দদাসকে আড়াই বছরের জন্য কারাগারে প্রেরণ করেছিল কাবাগার তাকে ঘানি টানতে হতো জনগণের সামনে শ্বাধীনতার বাণী, ইংরেজবিরোধী বক্তব্য প্রচারের মাধ্যম হিসাবে সেকালে ব্বংদশী যাত্রাগান যথেষ্ট কাজ করেছিল স্বদেশী আন্দোলনের সময় সর্বত্র শোন যেত স্বদেশী গান। সভা, শোভীযান্র1, বয়কটের কথা, পিকেটি-এর প্রাতিজ্ঞার কথা ওই সময় স্বদেশী প্রচারের জন্য সহায়তা করেছিলেন সেকালে বিভিন্ন স্বদেশী যাত্রাদলের কর্মকর্তারা

এক সময় পথের নাটকের মধ্য দিয়ে জমিদারের অত্যাচার ছুন্নীতি- পরায়ণ এক শ্রেণী কদাচার সরকারী আমলাদের দৌরাস্থ্যের কথা বল!

চর্ষবিশ

হাতো।। মাঁলদহে বিভিন্ন গম্ভীর! দল পথে অভিনয় করে; গান গেয়ে স্বদেশী আন্দোলনের কথা বলেছিল আলকাপ মুশিদাবাদ জেলার লোকনাট্য অনাড়ম্বর ভাষায় সর্লভাবে গ্রামজীবনের কথা আলকাপে প্রকাশ করা হয়। এক সময় সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে আলকাপের দল হিন্দু-মুসলমানের মিলনের বাণী প্রচার করে বেড়াতেন। আলকাপের একটি বিখ্যাত গানের কিছু অংশ হলে। এই আমর! ভাই ভাই হিন্দু মুসলমান, এক মাটিতে বাস করি, এক মরে গায় গান, আমরা হিন্দু মুসলমান বর্ধমান এবং বীরভূম জেলায় অনেক গ্রামে লেটোর দল আছে লেটোর দল সাধারণতঃ বিভিন্ন মেলায় অভিনয় গান গেয়ে থাকে। নেশাখোরের বিরুদ্ধে লেটোর দল ব্যক্ষ করে ছড়া কাটে. যেমন__ চুক চুক ঢুক ঢুক চোখ বুজে খায়, টলমল টলমল চলে ছুটি পায়। কাদরেতে পড়ে যায় সব কিছু ভুলে, পথ ভুলে কেহ যায় দামোদর কুলে শোনা যায়, বর্ধমানের লেটোর দল কয়ল। শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় শ্রমিকদের শোবণের কথ! নিয়ে পালা রচনা করেছিল ওই সময় লেটোর দল গান অভিনয়ে কয়ল! শ্রমিকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছিল। আলকাপ, লেট ইত্যাদি আজও গ্রামবাংলায় প্রচারের মূল্যবান মাধ্যম এক সময় পুরুলিয়ায় বিভিন্ন গ্রামে একটি লোকনাট্য দেখা! যেত। ওই পোকনাট্যের নাম মান্ছানি' মাছা স্যার! মাহ ধরে। মাচ্ছার বউন্-মা্ছানি। পাড়া থানায় একজনের সঙ্গে আর একজনের চেহারা,

পলি

স্বভাব ইত্যাদি সাদ্রশ্য থাকলে বলা হতো" জড়িমান্থা। এই অঞ্চলে নকল করা, ব্যঙ্গ করা-মাছানি বলা হয়। মাহানি - মাহুয়া অর্থাৎ জেলের বউকে নিয়ে এই নাটক। গ্রামের এক জেলের বউ এক ঝুঁড়ি মাছ নিয়ে গ্রামের পথে মাছ চাই গো” বলে ডাক দিয়ে চালেছিল। পাথ চার বেকার বাউণ্ডুলে নাচতে নাচতে এসে প্রেম নিবেদন করে। নাগ্গানিকে বিয়ে করতে চায়। এই হলো নাটকের বিষয় হয়াতে। প্রথম নাটক মানানিকে নিয়ে কোন গ্রামীণ নাট্যকার মানানি রচন! করেছিলেন অধিকাংশ লোকসংগীতের কবির নাম জান যায়ন। ঠিক তেমনি প্রথম মাছানি পালার কে নাট্যকার তা অভ্ঞাত। এই নিয়ে কারো মাথাব্যথ। নেই কোন প্রশ্ন ওঠে না। লোকনাট্যের নাটা- কারেরা এই নিয়ে চিন্তা করেন না বর্তমানে এই অঞ্চলে বিভিন্ন বিষয়ে, বিভিন্ন সমস্থা গ্রামবাসীর সামনে নাচে গানে লোকনাট্যে বক্তব্য তুলে ধরা হাল 'মাছানি' বলা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুবে উল্লেখিত কাহিনী রেখে বিভিন্ন নামে পালা অভিনীত হয়। মাছানি অতি দ্রতগঠিতে অভিনীত হয়ে থাকে নাটকের প্রতি পাল। নাচে গানে ভরা অভিনেতাদের পোষাক পরিচ্ছদ অতি সাধারণ ছেলের মেয়ে সাঙ্জে। গ্রামের একেবারে তলার মানুষের জীবনযাত্রার সেই আটপৌরে পোশাক লোকনাট্যে প্রকাশ পায়। গ্রামবাংলার সবহাঁরা, নিংন্ব, ভূমিহীন দরিদ্র, ক্ষেতমজুর গুভূতি জনজীবনের আলেখ্য তুলে ধরা হয় প্রতি পালায়। অধিকাংশ পাল! সমসাময়িক জীবনযাত্র! নিয়ে কৌতুক নাটিকারূপে ব্যঙ্গরসে পরিবেশন করা হয়।

তিন ট্বলি, গড়াত এক সময় সংবাদ দশের কাছে পৌছিয়ে দেবার কাজ ঢুলিরা করাতো। অনেক জমিদার জমি দিয়ে গ্রামে চুলি বসি;য়ছিল। তার! জমিদারের বন্তব্য ঢোল পিটিয়ে প্রচার করতে! অনেক জায়গায় ঢুলির! টাকা

ছাঁন্দিশ

পয়স। উপায়ের পথ হিদীবে অন্য লোকের জগ্ত ঢোল বাজিয়ে প্রচার করে বেড়াতো। প্রায় ৩৫ বছর আগে বাঁকুড়া শহরে এক ঢুলিকে দেখেছিলাম সে ঢোল বাজিয়ে পুলিশ, আদালত ইত্যাদি সরকারী আদেশ প্রচার করতো যখন কোন সরকারী ুকুম প্রচার করার মতো থাঁকাতে৷ না, তখন সে বাঁকুড়ার ব্যবসায়ীদের প্রচারের জন্ক ঢোল বাজাতো। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে প্রচার করতো ধেমন, কোন সিনেমায় কফি বই এসেছে সেই বইতে কোন কোন অভিনেতা, অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন, তার কথা হেসে প্রায় অভিনয় কারে বলে যেত। মনে হতো, পথের নাটক দেখছি

কলকাতায় প্রায় চল্লিশ বছর আগে পুলিশ বিভাগ খেকে দোলের সময় চুলি দিয়ে প্রচার কর! হতো যাঁতে কেহ রং অপরিচিত ব্যক্তির গায় 1 দেয়। যদি কোন অভিযোগ থানায় যায় তা" হালে যে রং দেবে, তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হাবে। ইত্যাদি বলে চুলি ঢোল বাজিয়ে প্রচার করতো

পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় বিশ কালামিটার দরে রামকঙ্পুর (নতুনডি) গ্রাম থানা পাড়া 'সেন্টার ফর কমুযুনিকেসান গ্যাণড কালচারাল এ্যাকসন'-এর অধ্যক্ষ সন্জীব সরকারের সঙ্গে ওই গ্রামে গিয়েছিলাম গ্রামের সমীক্ষা করার সময় একটি অজানা সংবাদ আগর! জানতে পারি। সেই সংবাদটি হালো৷ এই £

রামকষ্ণপুর ( নতুনড়ি ) গ্রামের বিশেষ কাজের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি 'গড়াত' নামে পরিচিত। ওই গ্রামের ঘিনি 'গড়াত', তিনি বাউরি সপ্রদায়ের লোক গ্রামে মাহাতোরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ধুনিয়া জেলে বাউরি গুবং অগ্ঠান্য সম্প্রদায় ওই গ্রামে বাস করেন গড়াত গ্রাম- ঠাকুরের পুজোর কথা, গ্রামের সকলকে জড়ে। হবার সংবাদ প্রচার করেন। গ্রামে জড়ো হওয়াকে 'মজলিশ' রল হয়। গ্রামবাসীরা সকলকে মংবাদ দিয়ে নিয়ে আপার দারিভ্ব গড়াতকে দিয়েছেন গড়াত যদিও গ্রামীণ অনুষ্ঠান উৎসবের কর! প্রাচার করেন তবু আমাদের আলোচনায় "্সড়ীতের কথ! উল্লেখ করা মোটেই অপ্রাজিক নয়

সাতাশ

চার | ভাট, প্ুয়া, হেটোকবি

ঢাঁকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম পে বাংলাদেশ ) কাছাড় ত্রিপুরাতে পল্লীকবিদের 'ভটি' বলা হতো তাদের গান ভাট গান বা ভাটের গান নামে পরিচিত ছিল এই প্রসঙ্গে উল্লেখ কর! প্ায়োজন, সেকালে মোহান্তরা দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য ভাট রাখতেন ভাটেরা মঠৈ থাকতেন মোহাম্তর] তাদের আহার, বাসম্থীান এমন-কি সংসারের খরচ চালাবার মতো অর্থ দিতেন ভাটের গ্রামে গ্রামে, জেলায় জেলায়, এমন-কি বাংলার বাহিরে গিয়ে দেবতার মাহাঁস্্য প্রচার করতেন তারকেশ্বর শিবমন্দিরেও ভাটেরা থাকতেন প্রায় শতবধ আগে এলোকেশীর মামল। একটি ঘ্বণিত ঘটনা মোহান্তের শ্বণা কাজের কথা প্রথমে ভাটের! ছড়া গান রচন? করে গাকাশ করেছিলেন সেদিন ভাটেদের পাশে কালীঘাঁটের পটুয়ারা দাঁড়িয়েছিলেন তারা সেদিন মোহাস্তের জঘন্য-কদর্ধ ঘটনা নিয়ে পট এ'কে গ্াচারে নেমেছিলেন মোহাম্তকে কারাগারে গিয়ে ঘানি টানতে হয়েছিল সেদিনের বিখ্যাত গানঃ

মোহান্তের তেল নিবি যদি আয়।